বাংলা উচ্চারণের নিয়ম

বাংলা ব্যাকরণ

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম
শিখনফল: এই পাঠের শেষে বাংলা উচ্চারণের নিয়ম বলতে পারবো।
স্বরধ্বনির ও ব্যঞ্জনধ্বনির বিভিন্ন উচ্চারণ কৌশল সর্ম্পকের বর্ণনা করতে পারবো।
সঠিক উচ্চারণে কথা বলতে পারবো।
————————————
যেকোনো ভাষার মতো বাংলা ভাষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে সেটি হলো উচ্চারণ। সঠিক উচ্চারণের অভাবে অনেক সময় বাক্য তৈরি করা বা সঠিক উচ্চারণ করতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয় । উচ্চারণ সঠিক না হলে কখনও কখনও শব্দের অর্থও বদলে যেতে পারে । তাই ভাষার সহজবোধ্যতা ও শব্দের সঠিক অর্থবোধের জন্য উচ্চারণ সর্ম্পকে জানা আমাদের একান্ত কাম্য।
উচ্চারণকে ইংরিজেতে বলা হয় syllable। এইগ অক্ষর গুলো থেকে মুক্তাক্ষর, বদ্ধাক্ষর, একাক্ষর, দ্বি-অক্ষর, ত্রি-অক্ষর ইত্যাদি শব্দগুলি গঠিত হয়।
আমরা যদি ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি লক্ষ করি, তাহলে দেখতে পাই অক্ষর অর্থাৎ বর্ণ বা হরফ রয়েছে মোট ৫টি যথাক্রমে – বা/ ং/ লা/ দে/ শ (বাংলাদেশ)। অপরদিকে শোনার বা বলার অক্ষর রয়েছে এখানে ৩টি যথাক্রমে – বাং/লা/দেশ (বাংলাদেশ) । উচ্চারণের ক্ষেত্রে এই দুই ধরনের অক্ষর নিয়েই আলোচনা করবো ।

মুক্তাক্ষর :- যে অক্ষর গুলো উচ্চারণকালে টেনে দীর্ঘায়িত করা যায়, তাকে মুক্তাক্ষর বলে থাকি । যেমন: মা, খা , কী, গো ইত্যাদি।

বদ্ধাক্ষর :- যে অক্ষর গুলো উচ্চারণকালে টেনে দীর্ঘায়িত করা যায় না , তখন তাকে বদ্ধাক্ষর বলে থাকি । যেমন :-দেশ, মন, দশ ইত্যাদি।

একাক্ষর শব্দ :- যে শব্দে মাত্র একটি অক্ষর (syllable) বিদ্যমান থাকে, তাকে একাক্ষর শব্দ বলে । যেমন: কী, পা ইত্যাদি।

স্বাধীন (অ) : যে (অ ধ্বনিটি অন্য কোনো বর্ণের উপর নির্ভর না করে সরাসরি শব্দে ব্যবহৃত হতে পারে, তাকে স্বাধীন “অ” বলে। যেমন: অচল, অর্জন, অলস,অসীম ইত্যাদি।
ব্যঞ্জনাশ্রয়ী বা নিহিত ” অ “: যে “অ” ধ্বনিটি অন্য বর্ণের উপর নির্ভরশীল, অন্য কোনো ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্তরূপে নিহিত হয় , তাকে ব্যঞ্জনাশ্রয়ী বা নিহিত “অ” বলে । যেমন: কলা, জমা, পদ্মা, মশা, মসি, রশি, শশী ইত্যাদি।
আদ্য-অ : শব্দের শুরুতে বা আদিতে স্বাধীন বা ব্যঞ্জনাশ্রয়ী “অ” ধ্বনি থাকলে তাকে আদ্য-অ বলে । যেমন: অতল, অমল, কমল, ঝমঝম, টনটন, ঠনঠন ইত্যাদি।
মধ্য-অ : শব্দের মধ্যে ব্যঞ্জনাশ্রয়ী “অ” ধ্বনি থাকলে তাকে মধ্য-অ বলে। যেমন: আপন, টোপর ইত্যাদি।
অন্ত্য-অ : শব্দের শেষে যদি ব্যঞ্জনাশ্রয়ী “অ” ধ্বনি থাকে তাকে অন্ত্য-অ বলে। যেমন:
ঘন,তৃণ, শুভ ইত্যাদি।
বিবৃত উচ্চারণ :- যে ধ্বনির উচ্চারণকালে চোয়ালগুলো বেশি ফাঁক থাকে এবং ঠোঁটগুলো কম গোল হয়, তাকে ঐ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ বলে থাকে । যেমন: অগ্র (অগ্ গ্রো), বরং (বরোঙ্), খেলা (খ্যালা), বেলা (ব্যালা) ইত্যাদি।

সংবৃত উচ্চারণ:- যে ধ্বনির উচ্চারণকালে চোয়ালগুলো কম ফাঁক থাকে এবং ঠোঁটগুলো বেশি গোল হয়, তখন তাকে ঐ ধ্বনির সংবৃত উচ্চারণ বলে। যেমন: লেখা (লেখা), শেখা (শেখা) ইত্যাদি।
হলন্ত ধ্বনি :- যে ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণে হসন্ত যুক্ত হয় ,তখন তাকে হলন্ত ধ্বনি বলে । যেমন : কম, গম, তবলা ইত্যাদি।
হলন্ত ধ্বনিগুলো সাধারণত বদ্ধাক্ষরের হয়ে থাকে । বানানে না থাকলেও উচ্চারণ লেখার সময় এসব ধ্বনির শেষে অবশ্যই হসন্ত দিতে হয়।
হলন্ত শব্দ:- যে শব্দের শেষ ধ্বনির উচ্চারণ কালে হসন্তযুক্ত হয়, তাকে হলন্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: ইদ, করুণ ইত্যাদি।
স্বরান্ত শব্দ:- যে শব্দের অন্তে অথ্যৎ (শেষে) স্বরধ্বনি যুক্ত থাকে, তখন তাকে স্বরান্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: কথা, কলি ইত্যাদি।
অ-কারান্ত শব্দ :- যেসব শব্দের শেষে “অ” ধ্বনি যুক্ত থাকে তখন তাকে অ-কারান্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: ছোট, বড় ইত্যাদি হলো অ- কারান্ত শব্দ ।
আ-কারান্ত শব্দ : যেসব শব্দগুলোর শেষে “আ” ধ্বনি যুক্ত থাকে তাকে আ-কারান্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: খেলা, বেলা ইত্যাদি আ- কারন্ত শব্দ ।
ই-কারান্ত শব্দ : যে শব্দের শেষে যদি “ই”ধ্বনি যুক্ত থাকে তাকে ই-কারান্ত শব্দ বলে থাকে । যেমন: ঋষি, কৃষি ইত্যাদি।
উ-কারান্ত শব্দ: যে শব্দের শেষে উ ধ্বনি যুক্ত থাকে তাকে উ-কারান্ত শব্দ বলে। যেমন: চাকু, ডাকু ইত্যাদি।
এ-কারান্ত শব্দ: যেসব শব্দের শেষে “এ” ধ্বনি যুক্ত থাকে তখন তাকে এ-কারান্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: কনে, ধনে ইত্যাদি হলো এ কারান্ত ।
ঐ-কারান্ত শব্দ: যেসব শব্দগুলোর শেষে “ঐ” ধ্বনি যুক্ত থাকে তাকে ঐ-কারান্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: কৈ, দৈ ইত্যাদি ।
ও-কারান্ত শব্দ: যেসব শব্দগুলো শেষে “ও”ধ্বনি যুক্ত থাকে তাকে আমরা ও-কারান্ত শব্দ বলে। যেমন: আলো, কালো ইত্যাদি।
ঔ-কারান্ত শব্দ:-যেসব শব্দের শেষে ঔ ধ্বনি যুক্ত থাকে তাকে ঔ-কারান্ত শব্দ বলে থাকি । যেমন: আদৌ, বৌ ইত্যাদি। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *